তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী?

বিশ্ব

একসময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বন্ধু দেশ ছিল তুরস্ক। আর আজ সেই তুরস্ককেই দাঁড় করানো হচ্ছে আমেরিকার সবচেয়ে শত্রুদের কাতারে। এখন প্রশ্ন আসছে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে? তুরস্ক পশ্চিমা বলয় থেকে আস্তে আস্তে বেড়িয়ে যাচ্ছে কি না? আসলেই কি তুরস্কের পশ্চিমা বলয় থেকে বেড়িয়ে যাওয়া সম্ভব?

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোগান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে বেলজিয়ামের রাজধানীতে প্রথম বৈঠকটি হয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এই মুখোমুখি বৈঠকে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আসলেই কি দু’দেশের সম্পর্কের রাতারাতি কোনও উন্নতি হওয়ার সম্ভব? তুরস্কের এবং আমেরিকার মাঝে অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে ঝুলিয়ে রেখে নতুন করে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা প্রায় অসম্ভব।

তুরস্ক কেন আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

দীর্ঘ চার দশক ধরে চলতে থাকা স্নায়ু যুদ্ধের সময় তুরস্ক মূলোতো তার স্বাধীনতা রক্ষায় ন্যাটো সামরিক জোটে তার সামরিক ও কৌশলগত অবদানের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন, তুরস্ক তার ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক গতিশীলতা, সামরিক শিল্পের উন্নতি এবং ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য বিশেষ ভাবে সামনে চলে এসেছে।

বিশেষ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়্যিপ এরদোগানের গত কয়েক বছর ধরে কিছু সাহসী পদক্ষেপ দেশটিকে আরও বেশি ফোকাসে নিয়ে এসেছে। তুরস্ক এখন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর একটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আধুনিক তুরস্ক রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য পশ্চিমা বলয়ে অবস্থান নেয়।

১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এবং ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চলতে থাকা স্নায়ু যুদ্ধের সময় তুরস্ক ছিল পশ্চিমা বলয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। তখন সম্পর্কের উত্থান পতন হলেও তুরস্ককে পশ্চিমারা দেখত সবচেয়ে আজ্ঞাবহ মিত্র হিসেবে। কিন্তু সে সম্পর্কে পরিবর্তন আসতে শুরু করে স্নায়ু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে, যখন সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙ্গে যায়।

তখন আমেরিকার নেতৃত্বে ন্যাটো তথা পশ্চিমারা এই অঞ্চলে পরিচালনা করতে থাকে একের পর এক তথাকথিত সন্ত্রাস বিরোধী এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। তখন থেকে শুরু করে গত বিশ-ত্রিশ বছরে ইরাক, ইরান, কুয়েত, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, নাগরনো কারাবাখ, বলকান অঞ্চল সহ তুরস্কের চারিদিকের ভুরাজনৈতিক পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এবং এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তুরস্কও নিজেকে সাজিয়ে নিয়েছে নতুন করে।

নতুন করে এই অঞ্চলে নিজের স্বার্থের জন্য পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে গিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নিয়েছে। নিজের সামরিক শিল্পকে অনেক শক্তিশালী করেছে। দেশটি পশ্চিমাদের আজ্ঞাবহ মিত্র থেকে বের হয়ে এখন যে বহুমুখী বিদেশনীতি অনুসরণ করছে তা অনেক পশ্চিমা রাজনীতিবিদ, কূটনৈতিক এবং বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তিরা ভালভাবে নিচ্ছেন না। এখন জোড়েসোরেই আলোচনা হচ্ছে যে তুরস্ক কি পশ্চিমা বলয় থেকে বেড় হয়ে যাচ্ছে?